ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল, সেটি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও অব্যাহত রয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরেও দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৬৯ কোটি বা ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। প্রবাসীদের পাঠানো এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে এসেছে ৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এসেছিল ৬ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবাসীরা ১ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১৬ শতাংশ।
অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রবাসীরা গত অর্থবছরে অনেক বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন। অর্থবছরটিতে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছিল। সে হিসাবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
গত অর্থবছরের চেয়েও রেমিট্যান্সে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক বড় শুভসংবাদ বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। সে হিসাবে এ বছর আশঙ্কা ছিল তা কিছুটা কমে যাওয়ার। কিন্তু আমরা দেখছি, প্রবাসীরা বৈধপথে আরো বেশি পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে আরো বড় রেকর্ড হবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সদ্য শেষ হওয়া সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই মাসে এসেছিল ২ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত মাসে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিরাজমান উল্লম্ফন শুরু হয়েছিল ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান তথা গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রবাসীরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈধপথে বেশি পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠাতে থাকেন। গত অর্থবছরে আসা ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও স্থিতিশীলতা ফেরে। ডলার সংকটের কারণে ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকেই দেশে রিজার্ভের ক্ষয় শুরু হয়। ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া রিজার্ভ দুই বছরের মধ্যে অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসে। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে রিজার্ভ বাড়তে শুরু করেছে। সেপ্টেম্বর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ডলারের সংকট পুরোপুরি কেটে গিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে।’